প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | মনোলোক
ঢাকা: দেশের অবকাঠামো ও যোগাযোগ খাতে ফের বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের ফেরি পারাপারের তীব্র ভোগান্তি ও নদীঘাটে রাত কাটানোর দিন অবসান ঘটাতে বহুল প্রতীক্ষিত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া বেগবান হয়েছে।
সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে এই মেগা প্রকল্পের নতুন সম্ভাব্যতা সমীক্ষার (Feasibility Study) জন্য ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এই বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করে অর্থ মন্ত্রক জানায়, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু সরকার ঘোষিত অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত নির্বাচনী ইশতেহারভিত্তিক প্রকল্প। সেতু বিভাগের অধীনে ইতিমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পর্যালোচনার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া চড়ান্ত ধাপে রয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬ জেলার স্বপ্নের বার্তা
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা এবং রাজবাড়ী—এই ৬টি জেলার মানুষের মূল ধান ও কৃষিপণ্য সরবরাহে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটই অন্যতম রুট। প্রস্তাবিত ৪.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেগা সেতু নির্মিত হলে:
-
সময় সাশ্রয়: ঘাটে ৩ থেকে ৬ ঘণ্টার ফেরি অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটে পার হওয়া যাবে পদ্মা নদী।
-
সরাসরি দূরত্ব হ্রাস: রাজধানী ঢাকার সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় বেঁচে যাবে।
-
কৃষির উন্নয়ন: কুষ্টিয়া, যশোর, মেহেরপুর ও রাজবাড়ীর শাকসবজি ও পচনশীল কৃষিপণ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সরাসরি রাজধানীর পাইকারি বাজারে পৌঁছাবে।
-
বন্দর ও রুট সংযোগ: ঢাকা থেকে দেশের বৃহত্তম বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দর এবং মোংলা সমুদ্রবন্দরের মধ্যে দ্রুততম ট্রানজিট সুবিধা তৈরি হবে।
অর্থায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন লক্ষ্যমাত্রা
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (ADP) অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় (সবুজ পাতা) অন্তর্ভুক্ত এই মেগা প্রকল্পটি পিপিপি (Public-Private Partnership) অথবা বৈদেশিক চীনা অর্থায়ন মডেলে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩২ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ চালু হলে এটি দেশের সার্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে (GDP) ১ শতাংশেরও বেশি প্রত্যক্ষ অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
monolok.net—এর সর্বশেষ খবরের আপডেট পেতে আমাদের পেজে লাইক দিন এবং নোটিফিকেশন অন রাখুন।
Leave a Reply