
মোঃ তপছিল হাছান | মনোলোক : চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামে চোর সন্দেহে তারেক (১৭) নামে এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মারধরের পাশাপাশি তার মুখে গামছা পেঁচিয়ে গরম পানি ঢেলে বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সফিকুল ইসলাম নামে একজনকে পুলিশ আটক করেছে। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও জনক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী তারেক ঢালী এলাকার মৃত জাকির হোসেনের ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে ক্যানটিন কর্মী হিসেবে কাজ করেন এবং সম্প্রতি ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, চুরির কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।
চুরির অভিযোগে আইন হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি প্রধানিয়া বাড়ির আল আমিনের ঘরে মোবাইল চুরির একটি ঘটনা ঘটে।

চোর সন্দেহে কিশোরকে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় নির্যাতন, পুলিশের হাতে সফিক: নেপথ্যে কারা?
সেই সূত্রের জেরে ভোরে আল আমিন, সফিক, মোতালেব, তানিন ও আনোয়ারসহ কয়েকজন তারেককে তার নিজ ঘর থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
পরবর্তী সময়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য মুখে গামছা বেঁধে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

চোর সন্দেহে কিশোরকে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় নির্যাতন, পুলিশের হাতে সফিক: নেপথ্যে কারা?
একপর্যায়ে কিশোরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করায়।
মায়ের আকুতি ও এলাকাবাসীর প্রতিবাদ
কিশোরের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি। অর্থাভাবে কষ্টে সংসার চালাই। চুরির অপবাদ দিয়ে আমার চোখের সামনে ছেলেটার ওপর এমন অত্যাচার করল। আমি অনুনয়-বিনয় করলেও তারা ছাড়েনি। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
এলাকাবাসীর মতে, চুরির সন্দেহ থাকলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা যেত। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়াই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন নৃশংস নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পুলিশি ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিদের একজন সফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। বাকিদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই সংস্কৃতির পেছনে মূল ইন্ধনদাতা কারা, আর তদন্তে সব আসামির কঠোর শাস্তি নিশ্চিত হবে কি না।
Leave a Reply